গাজীপুরে কার্প ও তেলাপিয়ার মিশ্র চাষ: ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে

গাজীপুরের সালনা এলাকায় ১৫ বছর ধরে মাছ চাষ করছেন আমাদের উপদেষ্টা Md Abdur Rashid। তাঁর ৪টি খামারে একই পুকুরে একাধিক মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। এই লেখায় তাঁর নিজের কথায় বলা চাষের পদ্ধতিটি সহজ করে সাজিয়ে দেওয়া হলো।

গাজীপুরের পানিতে কোন মাছ ভালো হয়

উপদেষ্টার অভিজ্ঞতায় গাজীপুরের পানিতে কার্প জাতীয় মাছ এবং তেলাপিয়া ভালো হয়।

কোন কোন মাছ একসঙ্গে চাষ হয়

তাঁর খামারে মিশ্র চাষ করা হয়। একই পুকুরে থাকে:

  • তেলাপিয়া
  • রুই
  • মৃগেল
  • সিলভার কার্প
  • কাতলা
  • ঘাস কার্প

মাছের অনুপাত (প্রতি ১ শতক পুকুরের জন্য):

মাছ অনুপাত
তেলাপিয়া ৫০%
রুই ও মৃগেল (মিলিয়ে) ৩০%
সিলভার কার্প ৭%
ঘাস কার্প ৫%
কাতলা ৩%
অন্যান্য মাছ ৫%

অর্থাৎ তেলাপিয়া সবচেয়ে বেশি থাকে, তারপর রুই ও মৃগেল। সিলভার কার্প, ঘাস কার্প ও কাতলা কম দেওয়া হয়।

কেন মিশ্র চাষ

উপদেষ্টার মতে, মিশ্র চাষের উদ্দেশ্য হলো পুকুরের সব স্তরের খাবার যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়।

পোনা কোথা থেকে আনা হয়

পোনা তিনি ময়মনসিংহ থেকে কেনেন। প্রতি শতকে ৪০টি পোনা ছাড়েন। শুরুতে তিনি কিছু বেশি পোনা ছাড়েন। পরে সংখ্যা ঠিক করে নেওয়া হয়, যাতে কিছু পোনা মরে গেলেও মাছের মধ্যে ভারসাম্য থাকে।

সাধারণত তিনি রেণু পোনা কিনে আনেন এবং সেগুলোকে নার্সারি করে বড় করেন। নার্সারি করা হয় ছোট পুকুরে, অথবা বড় খামারে জাল দিয়ে ছোট জায়গা আলাদা করে নিয়ে। নার্সারিতে পোনা প্রায় ২ মাস রাখা হয়। এরপর পোনা ১.৫ থেকে ৩ ইঞ্চি আকারের হলে মূল পুকুরে ছাড়া হয়। উপদেষ্টার মতে, সরাসরি মূল পুকুরে ছাড়ার জন্যও পোনার আকার ১.৫ থেকে ৩ ইঞ্চি হলে ভালো হয়।

খাবার

দিনে ২ বার কোম্পানির ভাসা খাবার দেওয়া হয়।

মাছ মরলে প্রথমে কী দেখেন

পুকুরে মাছ মরে গেলে তিনি প্রথমে দেখেন অক্সিজেন এবং পানির মান। অক্সিজেন কম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে অক্সিজেন ট্যাবলেট দেন।

প্রতি ২৫ দিনে মাছ তোলা

তাঁর চাষের চক্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১ বছর। এই সময়ে প্রতি ২৫ দিন পর পর পুকুরে জাল টেনে কিছু মাছ কমিয়ে দেওয়া হয়, অর্থাৎ বিক্রি করা হয়। এর কারণ, মাছের ঘনত্ব যেন না বাড়ে। মাছ বড় হওয়ার সঙ্গে ঘনত্ব কমানো দরকার, তাই সব আকারের মাছই সময় মতো তুলে ফেলতে বা বিক্রি করতে হয়।

এক বছরে এভাবে তাঁর ১০ থেকে ১১ বার মাছ তোলা হয়।

শেষ বিক্রির সময় মাছের ওজন

তাঁর অভিজ্ঞতায় চক্রের শেষ দিকে মাছের আনুমানিক ওজন:

মাছ আনুমানিক ওজন
তেলাপিয়া ১ থেকে ২.৫ কেজি
রুই ১.৫ থেকে ৩ কেজি
সিলভার কার্প ৩ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত
ঘাস কার্প ৩ থেকে ৬ কেজি
মৃগেল ১.৫ থেকে ৩ কেজি
কাতলা ৩ থেকে ৭ কেজি

কাতলা মাছ পুকুরে সবচেয়ে কম থাকে এবং সবার শেষে বিক্রি হয়, তাই এর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়।

যা মনে রাখবেন

এটি একজন অভিজ্ঞ চাষির নিজের খামারের অভিজ্ঞতা। পানির মান, আবহাওয়া ও পুকুরের আকারভেদে ফল আলাদা হতে পারে। ট্যাবলেট বা খাবারের পরিমাণ নির্ধারণের আগে পণ্যের নির্দেশনা দেখুন এবং স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন।

Leave a Comment